;

সিলেট বিভাগজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য পেট্রোল পাম্প বন্ধ

সিলেট বিভাগজুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য পেট্রোল পাম্প বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

সিলেট বিভাগে পেট্রল পাম্প মালিকদের সঙ্গে প্রশাসনের বিরোধকে কেন্দ্র করে হঠাৎ করেই জ্বালানি সরবরাহে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। ‘অযৌক্তিক’ জরিমানা ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির অভিযোগ তুলে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব পেট্রল পাম্প বন্ধ ঘোষণা করেন মালিকরা।

বুধবার (১ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্যবসায়ী নেতারা এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন। এর পরপরই গভীর রাত পর্যন্ত মোগলাবাজার এলাকায় অবস্থিত মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ডিপোতে পাম্প মালিক ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম জানান, জনস্বার্থ বিবেচনায় ধর্মঘট স্থগিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সিদ্ধান্তের আগ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল থেকেই সিলেটের সব পেট্রল পাম্প বন্ধ রাখা হয়।

পাম্প মালিকদের অভিযোগ, বুধবার বিকেলে আইন লঙ্ঘন করে এক পাম্প মালিকের দুটি পাম্পে অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে একটিতে হিসাব সংরক্ষণ না থাকার অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অন্যটিতে এক পাম্পের তেল অন্য পাম্পে নেওয়ার অভিযোগে জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ওই মালিককে প্রায় ছয় ঘণ্টা পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

এছাড়াও ট্যাগ অফিসার নিয়োগ, বিভিন্ন সংস্থার ঘন ঘন হিসাব তদারকি, পাম্পে পুলিশ মোতায়েন এবং একাধিক পাম্পে জরিমানা আরোপ—এসব বিষয় নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মালিকরা।

এদিকে, পরিস্থিতি সমাধানে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় পাম্প মালিকদের সঙ্গে প্রশাসনের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপরই ধর্মঘট স্থগিত বা প্রত্যাহারের বিষয়টি নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাত ৩টার দিকে বৈঠক শেষে সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, হঠাৎ করে ধর্মঘটের বিষয়টি জানার পরই তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং পাম্প মালিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। তার ভাষায়, কিছু ভুল বোঝাবুঝি থেকে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে তা দ্রুত সমাধান সম্ভব। প্রশাসন ব্যবসা সচল রাখা ও জনদুর্ভোগ কমানোর লক্ষ্যেই কাজ করছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।